কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের পর মামলা ধর্ষক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কের জেরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কলেজপড়ুয়া এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় কলেজছাত্রীর মা ভূঞাপুর থানায় অভিযোগের পর অভিযান চালিয়ে রুবেল (২৫) ও তার সহযোগী ওসমান গনিকে (৩৩) চট্টগ্রামের একটি বাসা থেকে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত রুবেল উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের খড়ক গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ও তার সহযোগী ওসমান গনি একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত রুবেল এক সন্তানের জনক। ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটি স্থানীয় একটি কলেজেরছাত্রী।

জানা যায়, অভিযুক্ত রুবেলের সঙ্গে ফেসবুকে নিয়মিত চলত কথাবার্তা। পরে দেখা-সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন কলেজছাত্রী। সে সময়ে কৌশলে তাদের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে রুবেল। পরে তার কথামতো না চললে সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিত সে। পরে কলেজছাত্রী কাউকে না জানিয়ে সে বাধ্য হয়ে রুবেলের সাথে চলে যায় চট্টগ্রাম। সেখানে একটি ভাড়া বাসায় থাকত তারা।

এদিকে, কলেজছাত্রী বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানে না পরিবার। মেয়েকে বাড়িতে না পেয়ে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে তার পরিবার। গত ৩০ মে নিখোঁজ উল্লেখ করে ওই ছাত্রীর মা ৫ জুন ভূঞাপুর থানায় একটি জিডি করেন। তারপর রুবেলের মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে অভিযান চালায় ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) ফাহিম ফায়সালের নেতৃত্বাধীন পুলিশ সদস্যরা।

অভিযান চালিয়ে বুধবার (৮ জুন) চট্টগ্রামের একটি বাসা থেকে অভিযুক্ত রুবেল ও তার সহযোগী ওসমানকে আটক করা হয়। সেইসঙ্গে কলেজছাত্রীকেও উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই কলেজছাত্রীর মা।

ভূঞাপুর থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, কলেজছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। সেখানেও ধর্ষণের শিকার হয় কলেজছাত্রী। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রুবেল ও তার সহযোগী ওসমানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটক অভিযুক্ত রুবেল ও তার সহযোগীকে শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তার মোবাইলে ওই মেয়েটিসহ একাধিক মেয়ের নানা ধরনের ছবি পাওয়া গেছে।